ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে জনপ্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বলেছেন, ‘দল-মত বুঝি না, জনগণ আমাদের যে ম্যান্ডেট দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নির্ভয়ে কাজ করুন, মেধার মূল্যায়ন করা হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার পরদিন গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সভাকক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান।
বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
গতকাল সচিবালয়ে নতুন সরকারের প্রথম কর্মদিবসে বিকেল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ প্রায় সব মন্ত্রণালয়ের সচিবরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
তবে ব্যতিক্রমী এই সচিব সভায় কোনো সচিবকে বক্তব্য দিতে হয়নি। প্রশাসনের শীর্ষ এসব কর্মকর্তার উদ্দেশে সরকারপ্রধান প্রায় ১০ মিনিট দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সচিব কালের কণ্ঠকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল একেবারে ‘লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার’। একেবারে কোনো ধরনের রাখ-ঢাক না রেখেই তিনি বলেছেন, ‘আপনাদের কে কোন দল করেন তা আমার দেখার বিষয় নয়।
জনগণ আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমাদের ৩১ দফাকে তাঁরা মেনে নিয়ে রায় দিয়েছেন। এখন এটাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আপনাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে পেশাদারি অক্ষুণ্ন রেখে ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে হবে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো একাধিক সচিব জানান, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়েই বেশি সময় কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি।
এ ক্ষেত্রে আপনাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রয়োজন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়তে হবে। জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। জনবান্ধব প্রশাসন গড়তে হবে। জনগণের সেবা প্রদানে কোনো ধরনের হয়রানি করা যাবে না। পেশাদারি বজায় রেখে প্রশাসনিক কাজ করতে হবে। মেধাকে আমরা মূল্যায়ন করব।’ প্রধানমন্ত্রী মূলত নির্বাচনী ইশতেহারকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
বৈঠক সূত্র আরো জানায়, প্রশাসনে নানা ধরনের দলবাজি হয়, সে বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উন্নত বিশ্বের প্রশাসনিক কাঠামো ও তাদের কাজের ধরনের উদাহরণ দেন। নিজ নিজ মন্ত্রণালয়গুলোর ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেছেন, ‘জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছেন তাঁদের পাশে থাকার জন্য। আমরা জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছি।’ বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে প্রতিটি মন্ত্রণালয় যেন সুন্দরভাবে কাজ করে, সেটাই ছিল প্রধানমন্ত্রীর মূল নির্দেশনা।
















