আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে উত্তাপ। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক দল, জোট ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সব আসনেই মূল লড়াই হবে বিএনপির প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যে।
দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোকে প্রহসন হিসেবে উল্লেখ করে রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, এবার তুলনামূলক মুক্ত পরিবেশে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ পাচ্ছেন তারা। অতীতের হামলা-মামলার ভয় কাটিয়ে ভোটারদের দোরগোড়ায় ছুটছেন প্রার্থীরা। যদিও তফসিল ঘোষণার পর শুরুতে নির্বাচনি আমেজ তেমন ছিল না, তবে ভোটের দুই সপ্তাহ আগে থেকে প্রচারে গতি আসে।
মঙ্গলবার খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জনসভা করে ছয়টি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
এদিকে সোমবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ২২ বছর পর খুলনায় জনসভায় অংশ নিচ্ছেন, যা দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
খুলনা-১ থেকে খুলনা-৬ প্রতিটি আসনেই ভিন্ন ভিন্ন সমীকরণে লড়াই চলছে। হিন্দু অধ্যুষিত আসনগুলোতে সংখ্যালঘু ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় জামায়াত কয়েকটি আসনে সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রার্থী দিয়েছে, আর বিএনপি সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও আস্থার বার্তা দিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছে।
খুলনা-২ ও খুলনা-৫ আসনকে প্রেস্টিজিয়াস ধরা হচ্ছে। নগর এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলের শক্ত অবস্থান থাকলেও প্রার্থী ইমেজ, সাংগঠনিক তৎপরতা ও জনসংযোগ নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উপকূলীয় খুলনা-৬ আসনে সংগঠনিক শক্তি ও নারী কর্মীদের সক্রিয়তায় জামায়াত এগিয়ে থাকলেও বিএনপিও ভোট বাড়াতে জোর প্রচার চালাচ্ছে। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে খুলনায় এবারের নির্বাচন বিএনপি ও জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য শক্তি পরীক্ষার মঞ্চ হয়ে উঠেছে।
















