‘অভ্যুত্থানের পরও নির্বাচন কমিশনের কোনও সংস্কার না হওয়া, হাইকোর্টের রায়ের পরও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিবন্ধন না দেওয়া এবং সর্বশেষ হাসনাত কাইয়ূমের স্বতন্ত্র প্রার্থীতা বাতিল- এ সবই একই সূত্রে গাথা। এই নির্বাচন শুধুমাত্র জাতীয় নির্বাচন নয় একসাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচনও।’
‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচন বিশ্বে এক বিরল ঘটনা এবং এই নির্বাচনের তাত্বিক ভিত্তি রচনা করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশন ফ্যাসিস্ট পতিত হাসিনা সরকারের নির্বাচন কমিশনের মতো কাজ করছেন। তারা ১৪, ১৮ এবং ২৪ সালের মতো বিতর্কিত নির্বাচন করার দিকে আগাচ্ছেন। এটা হলে সংস্কারের মাধ্যমে গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে। এটা হতে পারে ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট নির্বাচন। এভাবেই আবারও বাংলাদেশে আবারও হাসিনাতন্ত্র ফিরে আসার পথ তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন।’
শনিবার (৩ জানুয়ারি) ঢাকার তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজার দলীয় প্রধান কার্যালয়ে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানানো হয়। দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন বলেন, বাংলাদেশে সংস্কারের পক্ষে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছে, তার অন্যতম কান্ডারী হলেন হাসনাত কাইয়ূম। এটা এখন সর্বজন স্বীকৃত। সংবিধান সংস্কারের নির্বাচন ধারণার প্রবর্তক হলো রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। দ্বিদলীয় ব্যবস্থা থেকে উত্তরণে তৃতীয় শক্তির উত্থানে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন বিগত ১৫ মাস ধরে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এই তৃতীয় শক্তির উত্থান ঠেকাতে নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্র কাঠামো পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার দলের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূমের স্বতন্ত্র প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে।
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া যুক্ত করেন, হাইকোর্টের রায়ের পরও যে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিবন্ধন দেওয়া হলো না, তারই প্রতিবাদে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে হাসনাত কাইয়ূমের স্বতন্ত্র নির্বাচন করার নমিনেশন জমা দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন থেকে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর যাচাই করার সময় পুলিশ নিয়ে প্রান্তিক সমর্থকের বাসায় যাওয়া হয়। সমর্থক বাসায় না থাকলে তার বৃদ্ধা মাকে ভয় দেখিয়ে সে সমর্থক স্বাক্ষর করেন নাই মর্মে স্বীকারোক্তি নেয়া হয়। এভাবে বৃদ্ধা মায়ের ভয়ের মুখের স্বীকারোক্তি দিয়ে কোনও সমর্থকের সমর্থন মিথ্যা ঘোষণা করা, এটা হাসিনা সরকারের নির্বাচন কমিশনের আচরণ। এই নির্বাচন কমিশন ইতিহাসের নিকৃষ্ট নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে হাসিনা ও হাসিনাতন্ত্রকে ফেরত আনার জন্য কাজ করছেন। কিন্তু তারা সফল হবেন না। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন আপিলসহ সকল আইনি ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলবে। এ নির্বাচন কমিশন যদি এই পথেই চলে, তাহলে হাসিনার নির্বাচন কমিশনের মতো তাদেরও একই পরিণতি বরণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র সহ সভাপতি মাহবুবুর রহমান সেলিম, সহ সভাপতি এ জেড নিজামউদ্দিন ঠাকুর, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক সাহাবুদ্দিন কবিরাজ লিটন, দপ্তর সম্পাদক ছামিউল আলম রাসু, মিডিয়া সম্পদক এহসান আহমেদ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মামুন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক সুমন, প্রচার ও প্রচারণা সহ-সম্পাদক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন (রাকিব) প্রমুখ।
















